শিরোনাম
Advertisement
সারাদেশ

ক্যান্সারে নিঃস্ব অর্ঘ্যের পাশে: সায়লা কবির:

Advertisement
ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি,মমতা ও মানবিকতার এক অনন্য নজিরছবি: সারাক্ষণ সংবাদ

ক্যান্সারের নিষ্ঠুর থাবায় নিঃস্ব একটি পরিবার যখন জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। ঠিক তখনই আশার প্রদীপ হয়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিলেন বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা সায়লা কবির।

গণবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদীপ্ত তরুণ অর্ঘ্যের ক্যান্সার চিকিৎসায় নগদ অর্ধলক্ষাধিক টাকা সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পাশে থাকার অভয় বাণী দিয়েছেন এমপি-পত্নী ।

জানা যায়, সম্প্রতি অর্ঘ্যের নাক ও গলায় মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো এক নিষ্ঠুর ব্যাধি থাবা বসিয়েছে। এরপর থেকেই শুরু হয় জীবন বাঁচানোর এক দীর্ঘ, অনিশ্চিত ও ভীষণ ব্যয় বহুল সংগ্রাম। ইতো মধ্যেই কয়েক ধাপে যন্ত্রণাদায়ক কেমোথেরাপিসহ আনুষঙ্গিক চিকিৎসায় নিঃশেষ হয়ে গেছে ১০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ।

​ছেলের অকাল বিকাশ আর মুখের হাসিটুকুকে টিকিয়ে রাখতে একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার তাদের জমানো সাধ্যের শেষ সম্বলটুকুও ঢেলে দিয়েছে। কিন্তু ক্যান্সারের এই নিঃশব্দ দানবের সামনে এসে তাদের সেই সাধ্যটুকুও শেষের পথে। এক দিকে সন্তানের বেঁচে থাকার আকুল আকুতি আর জীবনের তীব্র যুদ্ধ। অন্য দিকে চিকিৎসার এই বিশাল খরচের পাহাড়। সব মিলিয়ে অর্ঘ্যের পুরো পরিবারটি এখন চরম দিশেহারা ও দিশাহীন এক অন্ধকারের মুখোমুখি।

আবেগ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অর্ঘ্য বলেন, কয়েক মাসের কয়েকটি কেমোথেরাপিসহ ১০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়ে যাওয়ায় আমাদের পরিবার একদম নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছে। ঠিক এমন কঠিন সময়ে সায়লা কবির ম্যাডাম পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। নিজে থেকেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। জীবনের এই ক্রান্তিলগ্নে তাঁর এই মহতী উদ্যোগ আমার মতো একজন রোগীর জন্য পরম পাওয়া এবং আমি তাঁর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

আশার আলো: অর্ঘ্য ও তার পরিবার
আশার আলো: অর্ঘ্য ও তার পরিবারছবি: সারাক্ষণ সংবাদ
 

কণ্ঠরুদ্ধ আবেগ চেপে অর্ঘ্যের বাবা বলেন,সন্তানকে বাঁচানোর জন্য এক জন বাবার সাধ্যের শেষ বিন্দুটুকু দিয়েও এতোদিন লড়াই করেছি। কিন্তু এখন আর পারছি না৷ নিঃস্ব হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল নেই। ঠিক এই চরম হতাশায় এমপি স্যারের সহধর্মিণী সায়লা কবির আপা আমাদের মাথায় মমতার হাত রাখলেন। তিনি নিজে এসে নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং অর্ঘ্যের পুরো চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার অভয় দিয়েছেন। এক হাহাকার করা অন্ধকারে তিনি যেন আমাদের কাছে ভগবানের মতো আশার আলো নিয়ে এলেন। ঈশ্বর তাঁর মঙ্গল করুন, আমার সন্তানটাকে বাঁচিয়ে দেন।

নিজের মানবিক অনুভূতির কথা ব্যক্ত করে সায়লা কবির বলেন,অর্ঘ্যের চিকিৎসার ব্যয় অনেক ব্যয়বহুল,তার চেয়েও হৃদয় বিদারক ওর পরিবারের বর্তমান অসহায়ত্ব। যে তরুণ কিছুদিন আগেও রঙিন ভবিষ্যৎ আর শিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পথ চলত। কিন্তু তাকেই প্রতিদিন লড়তে হচ্ছে মৃত্যুর অনিশ্চয়তার সঙ্গে। তবু সহানুভূতিশীল মানুষের ভালোবাসায় এই কঠিন লড়াইয়ে ওকে নতুন করে বেঁচে থাকার পথ দেখাচ্ছে।

​তিনি আরও বলেন,গতকালই আমি খবর পাই যে আমাদের এক মেধাবী সন্তান ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছে না। খবরটি শুনেই ওর পাশে ছুটে এসেছি। আপাতত ব্যক্তিগত ভাবে কিছু নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। তবে এখানেই শেষ নয়,মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় দ্রুতই সরকারি ও বেসরকারি তরফ থেকে বড় ধরনের অনুদানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অসহায় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা আমাদের সব সময়কার অঙ্গীকার আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এই প্রয়াস।

এ বিভাগের আরও সংবাদ