শিরোনাম
Advertisement
সারাদেশ

চাহিদা তুঙ্গে, উৎপাদনে ভাটা: অস্তিত্ব সংকটে হাজারী গুড়

Advertisement
উৎপাদনকারী গাছিদের সাথে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসকছবি: সারাক্ষণ সংবাদ

জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘হাজারী গুড়ে’র চাহিদা তুঙ্গে। তবে গাছ ও গাছি সংকটের সুযোগে একশ্রেণির অসাধু চক্র বাজারে নকল গুড় ছড়াচ্ছে। ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় নতুন খেজুর গাছ রোপণ, নিয়মিত ভেজালবিরোধী অভিযান এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) হরিরামপুরে হাজারী গুড় উৎপাদনকারীদের সাথে মতবিনিময় সভায় এর উৎপাদন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সংকট উঠে এসেছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন,হাজারী গুড়ের ঐতিহ্য, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও গুণগত মান সংরক্ষণের পাশাপাশি জিআই স্বীকৃতির ফলে এ অঞ্চলের গুড় উৎপাদনকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আজকের সভায় গুড় উৎপাদনকারীদের কথা শুনেছি। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে তাঁদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

​তিনি আরও বলেন, জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে এই গুড়ের চাহিদা অনেক বেড়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খেজুর গাছ রোপণের বিশেষ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। তবে এসব গাছের সার্বিক পরিচর্যায় স্থানীয়দের এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া জ্বালানি সংকট দূর করতে এবার পরীক্ষামূলকভাবে বায়োগ্যাস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

​আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, হাজারী গুড় জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই পণ্যের পরিচিতির পাশাপাশি বাণিজ্যিক চাহিদাও অনেক বেড়েছে। তাই গুড় উৎপাদনকারী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

​উৎপাদনকারীদের পক্ষে আব্দুল করিম গাছি বলেন, এখানে বর্তমানে ৩৫টি পরিবার হাজারী গুড় তৈরির সাথে জড়িত, কিন্তু দিন দিন এই সংখ্যা কমে আসছে। পাশাপাশি গাছেরও তীব্র সংকট রয়েছে। নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের সমাধান না হলে গুড়ের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়।

​নবীন গাছি সাব্বির খান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের প্রায়ই অন্য এলাকায় গিয়ে গাছ কাটতে হয়। কিন্তু সেখানে প্রভাবশালীরা জোর করে গাছ থেকে রস নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করছি।

​অপর গাছি মিজানুর রহমান বলেন, খেজুর গাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, দ্রুত চারা রোপণ করা জরুরি। নতুন প্রজন্ম যাতে এই পেশায় উৎসাহিত হয়, সেজন্য আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে রাজি আছি। পাশাপাশি বাজারে যাতে কোনো ভেজাল গুড় বিক্রি হতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

​হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খায়রুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিমিদা বিসরাত হোসেন এবং হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাওয়াদ তৌফিকুল আজম।

এছাড়া হাজারী পরিবারের সপ্তম বংশধর শফিকুল ইসলাম শামীম হাজারী, বাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাচ্চু মিয়া, জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, বাল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম ভূঁইয়া তারেকসহ স্থানীয় হাজারী গুড় উৎপাদনকারী গাছিরা সভায় উপস্থিত থেকে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ