শিরোনাম
Advertisement
জাতীয়

তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Advertisement
সারাক্ষণ সংবাদ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ  সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হবে।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরের দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইন শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণ সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন এই হাসপাতালগুলোতে নারীদের জন্য ২০টি এবং শিশুদের জন্য ২০টি সিট সংরক্ষিত থাকবে এবং ডায়ালাইসিসের জন্য ১০টি সিট রাখা হবে। স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিটি উপজেলায় ৩১ শয্যার হাসপাতাল চালুর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার সূচনা করেন। পরবর্তীতে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেগুলোকে উন্নীত করে প্রতিটি উপজেলায় ৫০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর করেন।

    ​তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে তিন বছরের মধ্যে এমবিবিএস ডাক্তার, নার্স, মিডওয়াইফ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসংবলিত হেলথ সেন্টার করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের মধ্যে সেরা কমিউনিটি ক্লিনিক বা হেলথ সেন্টারটি বেছে নিয়ে “হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার” নামে একটি সুন্দর অফিস স্থাপন করা হবে।

    সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের আমলে হাম প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চার বছর পরপর ক্যাম্পেইনিংয়ের নির্দেশনা থাকলেও বিগত সরকার কোনো টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেনি। ইউনিসেফ বর্তমান সরকারকে দ্রুত টিকা কেনার তাগিদ দিলেও আগের সরকার খোলা টেন্ডারের মাধ্যমে কম দামে টিকা কিনতে চায় এবং সাংবাদিকরা তা ধরে ফেলায় তা সম্ভব হয়নি। সরকার পরিবর্তনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে টিকা সংগ্রহ করা হয় এবং গত ৪ এপ্রিল থেকে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

    ​তিনি আরও বলেন, ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের এই দেশে প্রতি ১১ হাজার মানুষের জন্য একজন ডাক্তার রয়েছেন। সকলের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ডাক্তারদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে রোগীরা দেশের প্রতিটি উপজেলার চিকিৎসা সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট।

    ​মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আপনাদের নিয়ে একটি সুন্দর ও উন্নত দেশ গড়তে হবে, সেই বার্তাটিই আপনাদের দিতে এসেছি। জুলাইয়ে ছাত্র জনতার অংশ গ্রহণে বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটে গেছে। সেই বিপ্লবের মুখে ফ্যাসিবাদ, খুন ও গুমের সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীরা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কাজেই আমাদের সেই ভালোবাসার দৃষ্টি দিয়ে দেশটাকে গঠন করতে হবে। আমাদের দেশের ভেতর অনেক শত্রু আছে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। আমাদের এই স্বাধীনতা ধরে রাখতে হবে। স্বাধীনতা ধরে রাখতে হলে একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে এবং সব দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠতে হবে।

    ​তিনি আরও বলেন, নেশা ও ধর্ষণ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। সামাজিক সুবিচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    ​স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, সমাজ থেকে নেশা ও অনলাইন জুয়ার মতো বিষফোঁড়া দূর করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের সামলাতে অভিভাবকদের কাউন্সেলিং করতে হবে। ক্ষমতা বা পদপদবি যাই থাকুক না কেন মানুষের সেবায় ইগো ও ব্যক্তিগত স্বার্থ ভুলে নম্রতা, ভদ্রতা এবং মানবিক গুণাবলি নিয়ে কাজ করাই আমাদের মূল দায়িত্ব।

    ​জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্তসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল কার্যালয়ের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ