শিরোনাম
Advertisement
জাতীয়

‘শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় জনগণ কার্যকর করতে চায়’

Advertisement
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুছবি: সারাক্ষণ সংবাদ

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘আপনার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, সেই রায় বাংলাদেশের জনগণ কার্যকর করতে চায়। যে পরিমাণ খুন-গুম করেও কোনো অনুশোচনা নেই, তাকে দেশের মানুষ ছেড়ে দেবে না।

    তিনি আরও বলেন, ‘অনুশোচনা না করে হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করেছে। হুমকি-ধামকি দিয়ে এ দেশের জনগণকে কি রোধ করা যায়? যাবে না।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা মিলনায়তনে বকনা বাছুর ও গোখাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ​প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত সময়ে একটি ফ্যাসিবাদী ও জালেম সরকার দেশ শাসন করেছিল। তারা মানুষ হত্যা, গুম ও শিশু হত্যা থেকে শুরু করে আলেম-ওলামাদের ওপর নানা নিপীড়ন চালিয়েছে। দেশের সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত ও বিতাড়িত করেছে।”

    ​সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, “ক্ষমতাচ্যুত সেই শাসকগোষ্ঠী আজ নানা ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে এবং দেশে ফেরার কথা বলছে। কিন্তু আদালত তাদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দিয়েছেন এবং এ দেশের জনগণ সেই রায় কার্যকর দেখতে চায়। যে পরিমাণ হত্যা ও গুম চালানো হয়েছে, তার জন্য তাদের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই; বরং তারা প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তবে এবার বাংলাদেশের জনগণ তাদের আর কোনো ছাড় দেবে না।”

    ​বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশে যতবারই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ততবারই বিএনপি রাজপথে সংগ্রাম করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিল এবং সম্প্রতি সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়েছে।”

    ​গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আজ দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকার নির্বাচন করেছেন। যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করতে আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে। আমরা যদি সতর্ক থাকি, তবে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।”

    ​তিনি চরাঞ্চলের খামারি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে বলেন, “সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সর্বদা আপনাদের পাশে রয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ হলেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে, তাদের সবাইকে মিলে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।”

    ​দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য দেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইমান উদ্দিন কবির ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) সাদিয়া সাবরিনা চৌধুরীসহ স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুবিধাভোগী খামারিরা।

    ​উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় সুবিধাভোগী খামারিদের মাঝে বকনা বাছুর ও গোখাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর চরাঞ্চলের খামারিদের মাঝে ২৫টি বকনা বাছুর ও প্রয়োজনীয় গোখাদ্য তুলে দেন অতিথিরা।

এ বিভাগের আরও সংবাদ