মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বইপ্রেমীদের জ্ঞান অর্জনের জায়গাটি প্রায় ৩০ বছর ধরে তালাবদ্ধ হয়ে আছে। কি কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ভেতরের বই ও আসবাবপত্র কোথায় গেল,এ নিয়ে প্রশ্ন সর্বমহলে ।
উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে ১৯৯৩ সালের দিকে অডিটোরিয়াম হলরুমের দ্বিতীয় তলায় পাবলিক লাইব্রেরিটি নির্মিত হয়। শুরুর দিকে বইপ্রেমীদের আনাগোনা বাড়লেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় অযত্ন ও অবহেলায় জরাজীর্ণ ভবনের ভেতরের বই এবং আসবাবপত্র উধাও হয়ে যায়। এই পাবলিক লাইব্রেরির পদাধিকারবলে সভাপতি হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। ধীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জ্ঞানচর্চার এই স্থানটি কখনোই তাঁদের নজরে আসেনি।
জানা যায়, জেলার সাটুরিয়া উপজেলার থানা ও ডাকবাংলো সংলগ্ন অডিটোরিয়ামের দ্বিতীয় তলায় ১৯৯৩ সালে লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বইপ্রেমীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়া ও সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা করতেন। কোনো এক অজ্ঞাত কারণ ও কালের পরিক্রমায় লাইব্রেরিতে পাঠক কমতে কমতে তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। জ্ঞানচর্চার এই স্থানটি প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। লাইব্রেরিতে থাকা মহামূল্যবান ও ইতিহাস সংবলিত বই এবং আসবাবপত্র উধাও হয়েছে,আর তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।
দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা সেই লাইব্রেরির তালা ভেঙে ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হক। ভেতরের পরিবেশ দেখে হতবাক হন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। দোতলায় অবস্থিত লাইব্রেরির জানালার গ্রিল, দরজা এবং আলমারিতে থাকা বইসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র উধাও হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে বাসা বেঁধেছে কবুতর, আর তাদের বিষ্ঠার দুর্গন্ধের কারণে ভেতরে থাকা দায়। এছাড়া দেওয়ালের পাশে ও ভবনের ছাদে বড় বড় বটগাছ জন্ম নিয়ে এর শিকড় পুরো ভবনটিকে গ্রাস করেছে।

সাটুরিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন পিন্টু বলেন, এক সময় এখানে বইপ্রেমীদের ভিড় থাকলেও পরে পাঠক কমতে কমতে লাইব্রেরিটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন অনুদান এলেই গোপনে কমিটি করে টাকা তোলার হিড়িক পড়ে কিন্তু দেখ ভালের কেউ থাকে না।
নাম পরিচয় প্রকাশ না করার মর্মে একাধিক ব্যক্তি বলেন, নিয়মিত কমিটি না থাকায় এবং শুধু অনুদানের সময় কমিটির সদস্য বাড়ানোর প্রবণতার কারণে লাইব্রেরিটিরআহ এই রুগ্ন দশা। সকলে জড়িত যার কারণে এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে না।
দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা মো. গোলাম হোসেন বলেন, ব্যস্ততার কারণে আমি সময় দিতে পারি নি। যার কারণে সাটুরিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেককে মৌখিক ভাবে দায়িত্ব দিয়ে ছিলাম। লাইব্রেরিতে থাকা বই,আসবাপত্র নেই এমন তথ্য আমিও শুনেছি।
পদাধিকারবলে সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, আমি যে এই লাইব্রেরির সভাপতি, তা কেউ কখনো আমাকে জানায়নি। পরিদর্শনে যা দেখলাম তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা রয়েছে। খুব দ্রুত অডিটোরিয়াম ও লাইব্রেরিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।





