টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার পচাসারুটিয়া মেহের আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক সহকারী শিক্ষিকা বখাটে শিক্ষার্থীর হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষালয়টির শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও শিক্ষায়তন সূত্রে জানা যায়, পচাসারুটিয়া মেহের আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিমা রানী পাল প্রতিদিনের মতো দশম শ্রেণিতে ক্লাস নিতে যান। পাঠদান চলাকালে ইব্রাহিম খলিল নামের এক বখাটে ছাত্র অনবরত কথা বলতে থাকে ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। শিক্ষিকা তাকে কথা বলতে নিষেধ করলে সে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে শিক্ষিকার ওপর চড়াও লাঞ্ছিত করে।
ঘটনার আকস্মিকতায় অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা রিমা রানী পাল প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমে নারী শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর এমন ন্যাক্কার-জনক ও শিষ্টাচার-বহির্ভূত হামলায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা রিমা রানী পাল বলেন, দশম শ্রেণিতে বাংলা পাঠদানকালে শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল বিশৃঙ্খলা করছিল। আমি তাকে শান্ত হতে বললে সে তা না শুনে উল্টো আমার ওপর চড়াও হয় এবং লাঞ্ছিত করে। একজন শিক্ষকের কাছে তার শিক্ষার্থী সন্তানের মতো। সেই শিক্ষার্থীর হাতেই যখন শ্রেণি কক্ষে শিক্ষক লাঞ্ছিত হন, তখন আর মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো কিছু থাকে না। এই আঘাত শুধু আমার শরীরে লাগেনি, আমার শিক্ষকতার মর্যাদা ও হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য রাগবীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি আমাদের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহিদুর রহমান বলেন, দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আমাদের সহকারী শিক্ষিকা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গর্হিত এবং কোনো ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। আমি ইতিপূর্বে সভাপতি মহোদয়কে বিষয়টি বিস্তারিত অবহিত করেছি। একজন শিক্ষকের সম্মান ও সুরক্ষার প্রশ্নে আমরা বিন্দুমাত্র আপস করব না। অতি দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার দুঃসাহস না পায়।





