মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি তেল বরাদ্দের অভাবে দুটি জেনারেটর অকেজো। তীব্র লোডশেডিংয়ে গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চিকিৎসাধীন রোগীরা।
সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৬ সালে ১০ কেভিএ জেনারেটরটি তেলের অভাবে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর নতুন জেনারেটর স্থাপন করা হলেও, জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় সেটিও ৫ বছরে এক ঘণ্টাও চালানো যায়নি।
জানা যায়, জেলার সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থানীয় মানুষের চিকিৎসার একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় সহস্রাধিক বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চিকিৎসা সেবা নেন। তবে গত কয়েক দিনের টানা লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আগে বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের সিজারসহ সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলত। কিন্তু ঘনঘন লোডশেডিং এবং জেনারেটর সচল না থাকায় বর্তমানে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে এবং সিজারিয়ান রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এছাড়া প্যাথলজির পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হওয়ায় রোগীদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
দরগ্রাম থেকে আসা এক রোগীর স্বজন শরিফুল বলেন,অসহ্য গরমে হাসপাতালে বেশি ক্ষণ টেকা যায় না,মনে হয় রোগীরা সুস্থ হতে এসে উল্টো আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী বরেও মন্তব্য করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন রোগী বলেন, তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে হাসপাতালের তিন তলার ওয়ার্ডে রোগীদের থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে শিশুরা কান্নাকাটি করলে তাদের নিয়ে বাইরে যেতে হয়। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নার্সদের রুমে জেনারেটরের মাধ্যমে ফ্যান চললেও রোগীদের বিছানায় বাতাস পৌঁছায় না। নার্স ও ডাক্তারের কক্ষে এই আরাম- আয়েশের ব্যবস্থা থাকলেও রোগীদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই বলে অভিযোগও করেন ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, তেল বরাদ্দ না থাকায় জেনারেটর দুটি চালু করা যাচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এ গুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও কোন ধারণা নাই।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, লোডশেডিং ও গরমে রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে নতুন অর্থ বছরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি আইপিএস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।





