মানিকগঞ্জে উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় দিগন্ত জোড়া মাঠে সোনালী রোদে সবুজ হলুদ আঁখের খেত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রাচীন এই ফসলটি হারাতে বসেছে তার চিরচেনা রূপ। তবে গ্রামীণ অর্থনীতির অপার সম্ভাবনা বাস্তবায়নে আধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত চাষাবাদে নতুন রঙিন স্বপ্ন দেখছে কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় একসময় কম বেশি আখের আবাদ হলেও তা দিন দিন কমে যাচ্ছে। খেত থেকেই ছোট বড় পাইকাররা বিভিন্ন আকারের কাঙ্ক্ষিত আঁখ সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট বাজারের অলিতে গলিতে বিক্রি করছেন। এতে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা শ্রমিক সংকট ও ন্যায্য মূল্যের অভাবে চাষিরা দিন দিন এই ফসল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। প্রাচীন এই সোনালী ফসলের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিষাক্ত তামাক চাষের পরিবর্তে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আধুনিক জাতের আঁখ এবং বিজ্ঞান সম্মত চাষ পদ্ধতি। কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদর উপজেলার রঙ্গনপুর এলাকার চাষি আব্দুর রহমান বলেন, জমি বর্গা ও চাষাবাদ মিলিয়ে মোট ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো দাম পেলে প্রায় ১ লাখ টাকায় আঁখ বিক্রি করা সম্ভব। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকে।
একই এলাকার আরেক চাষি শাহিনুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চাষাবাদ করতে হয় বলে আঁখ চাষে নানা সমস্যা পোহাতে হয়। সময় মতো পর্যাপ্ত শ্রমিক এবং উৎপাদিত আঁখের সঠিক বাজার মূল্য না পাওয়া অন্যতম প্রধান সমস্যা। যার কারণে দিন দিন আমাদের এই অঞ্চলে আঁখের আবাদ কমে যাচ্ছে।
আতাউর রহমান নামের এক পাইকার বলেন, ১০০ পিস আঁখ কিনছি ২ হাজার ২০০ টাকায়। বিক্রি করতে হবে প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আগে আবাদ বেশি হতো, এখন সার, বীজ ও শ্রমিক সংকটের কারণে আঁখের আবাদ কমে যাচ্ছে। উৎপাদন বাড়লে পাইকাররাও সহজে মাঠে এসে আঁখ কিনতে পারবে এবং এতে কৃষকরাও লাভবান হবেন।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: মাসুম ভূঁইয়া বলেন, সদরে এ পর্যন্ত ১৫৭ হেক্টর জমিতে আঁখের আবাদ হয়েছে। তামাক চাষের পরিবর্তে আঁখ ও এর সাথে সাথী ফসল চাষের পরিকল্পনার প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদের জন্য সার্বক্ষণিক পাশে থেকে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।