শিরোনাম
Advertisement
অর্থনীতি

চাহিদা সংকট ও দরপতন: লেবু চাষে চরম বিপর্যয়

Advertisement
বাজারে ধস, গাছেই পচে যাচ্ছে পরিপুষ্ট কোটি টাকার লেবুছবি: সারাক্ষণ সংবাদ

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে লেবুর বাম্পার ফলন হলেও, দরপতনে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    চরম দরপতন ও চাহিদা সংকটে সাটুরিয়ার ঐতিহ্যবাহী লেবু চাষ এখন চাষিদের জন্য এক করুণ বিপর্যয়। লেবু তোলা বন্ধ থাকায় গাছে গাছে পেকে ঝরে পড়ছে কোটি টাকার ফসল, আর ধসে পড়ছে শত শত পরিবারের স্বপ্ন।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাটুরিয়া উপজেলায় প্রায় ১০৫ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে।

    রসে টইটম্বুর কিন্তু কদর নেই,পেকে নষ্ট হওয়ার পথে লেবু
    রসে টইটম্বুর কিন্তু কদর নেই,পেকে নষ্ট হওয়ার পথে লেবুছবি: সারাক্ষণ সংবাদ
     
    সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শেখরীনগর, কন্দর্পপুর, বাছট ও বৈলতলাসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে এক করুণ ও হতাশাজনক দৃশ্য চোখে পড়ে। এক সময়ের কেনাবেচায় সরগরম থাকা লেবু বাগান গুলোতে এখন শুধুই থমথমে নীরবতা বিরাজ করছে। বাজারে লেবু বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরিটুকুও না ওঠায় চাষিরা বাধ্য হয়ে লেবু তোলাই বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে শত শত লেবু গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে এবং মাটিতে ঝরে পড়ে পচে যাচ্ছে।

    ​বর্তমানে বাজারে প্রতি ১০০টি লেবু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। প্রতিটি লেবুর পাইকারি দাম দাঁড়াচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পয়সা। সার, কীটনাশক, বাগানের নিবিড় পরিচর্যা এবং পরিবহন খরচ হিসাব করলে একটি লেবু উৎপাদনে চাষিদের ব্যয় হয় এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। ফলে এই চরম দরপতনের মুখে পড়ে প্রতিনিয়ত মারাত্মক আর্থিক লোকসান গুনছেন স্থানীয় চাষিরা।

    ​এই অঞ্চলে লেবু চাষের পথপ্রদর্শক, কন্দর্পপুর গ্রামের প্রবীণ চাষি মো. শাজাহান আলী জানান, চাহিদা কম হলেও সার, কীটনাশক, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ আকাশচুম্বী। ঢাকায় এক খাঁচি লেবু পাঠিয়ে শ্রমিকের মজুরিই ওঠে না,উল্টো পকেট থেকে দিতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে চাষিরা বাগানেই লেবু নষ্ট হতে দিচ্ছেন।

    দরপতন ও অবহেলায় মাটিতে ঝরে পচে যাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন
    দরপতন ও অবহেলায় মাটিতে ঝরে পচে যাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্নছবি: সারাক্ষণ সংবাদ
     
    ​একই আক্ষেপ শেখরীনগর গ্রামের নজরুল ইসলামের। ২০০ শতাংশ জমির এই চাষি বলেন, গত বছর ৪ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করলেও এবার অর্ধেকও পাইনি, পুরো লোকসানে পড়ে গেছি।

    ​অন্যান্য চাষিদের দিনও কাটছে চরম হতাশায়। বিল্লাল হোসেন নামে এক চাষি ক্ষোভ ও দুঃখে বলেন, দিনরাত কষ্ট করে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে চোখে পানি চলে আসে, কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই।

    কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষাণাগারের অভাবই সাটুরিয়ার লেবু চাষিদের এই করুণ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে লেবু সংরক্ষণ সুব্যবস্থা থাকলে এই লোকসানের সম্মুখীন হতে হতো না।

    ​সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া তাবাসসুম বলেন, সাটুরিয়া লেবু চাষের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। চলতি মৌসুমে ১০৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। শুরুতে ভালো দাম মিললেও বর্তমানে বাজার কিছুটা মন্দা। তবে আশা করছি, চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে দ্রুতই দাম বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ