শিরোনাম
Advertisement
অপরাধ

আমার মেয়ে-নাতনির কী দোষ ছিল: প্রিয়াঙ্কার মা

Advertisement
সন্তান হারানোর যন্ত্রণায় কাতর পিয়াঙ্কার মাছবি: সারাক্ষণ সংবাদ

    আমার মেয়ে আর নাতনির কী দোষ ছিল,কেন এভাবে তাদের হত্যা করা হলো? কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা গুলো বলছিলেন নিহত প্রিয়াঙ্কার মা আলিয়া বেগম।

    ​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড় তিনটার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

    ​তিনি অভিযোগ করে বলেন, এবার বিদেশ থেকে বাড়ি আসার পর থেকেই জামাই কারও সঙ্গে তেমন একটা কথা বলত না, একা একা থাকত। আমরা কোনো কিছু জানতে চাইলেও তেমন উত্তর দিত না। সে সব সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকত।

    ঘটনাস্থলে এলাকাবাসীর ভিড়, চাঞ্চল্য সৃষ্টি
    ঘটনাস্থলে এলাকাবাসীর ভিড়, চাঞ্চল্য সৃষ্টিছবি: সারাক্ষণ সংবাদ
     

    ​তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে জামাই সব সময় ভালো ব্যবহার করত বলেই জানি এবং নিজের চোখেও তা দেখেছি। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা আমার মেয়েকে খুব একটা পছন্দ করত না। জামাই দেশে আসার পর থেকেই তার ভাই-বোনেরা তাকে প্ররোচিত (মগজধোলাই) করতে শুরু করে। আমার ধারণা, সেই কারণেই সে আমার মেয়ে ও নাতনিকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।

    ​নিহত আকরামের ষাটোর্ধ্ব খালা জাহানারা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, আকরাম প্রায় দুই মাস হলো দেশে এসেছে। এবার দেশে ফেরার পর থেকে সে তেমন একটা বাড়ির বাইরে যেত না, সব সময় ঘরের ভেতরেই থাকত। গত কয়েক দিন আগে আমি ওদের বাড়ি এসেছিলাম। ওর ঘরে ঢুকে জিজ্ঞেস করলাম,কীরে আকরাম, তোর চেহারার এমন অবস্থা হলো কীভাবে? তখন সে উত্তরে বলল, খালা আমার শরীরটা খুব একটা ভালো নেই। এরপর পরিবারের লোকজনকে বলেছিলাম তাকে চিকিৎসা করাতে, কিন্তু সেই চিকিৎসা আর করানো হলো না।

    ​নিহত আকরামের প্রতিবেশী মামুনুর রশীদ বলেন, আকরাম সম্পর্কে আমার ভাগনে হয়। ছোটবেলা থেকেই আমি তাকে চিনি, সে খুবই ভালো মানুষ ছিল। আকরাম প্রথমে একটি বিয়ে করেছিল, তবে তাদের সেই সংসার বেশি দিন টেকেনি। পরবর্তীতে প্রায় তিন বছর আগে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে পারিবারিকভাবেই তার বিয়ে হয়। আমরা দেখে এসেছি তারা ভালো ভাবেই সংসার করছিল। আকরাম সৌদি আরবে থাকত এবং এটি ছিল তার দ্বিতীয়বারের মতো দেশে আসা। সে দুই মাস হলো বাড়িতে এসেছে। তবে এবার বাড়ি আসার পর থেকে তার চালচলন স্বাভাবিক ছিল না। সে সব সময় বাড়িতেই থাকত এবং কারও সঙ্গে তেমন কথা বলত না। আমাদের ধারণা, পারিবারিক কলহের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওদের বাড়ি থেকে কান্নাকাটির শব্দ শুনে এগিয়ে গিয়ে টিনের ছিদ্র দিয়ে দেখি, আকরাম ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। এরপর আমিই থানায় খবর দিই।

    ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বক্তব্য দিচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তা
    ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বক্তব্য দিচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তাছবি: সারাক্ষণ সংবাদ
     

    ​মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: মহরম আলী বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আকরাম হোসেন তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

    ​উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামের মৃত নূরুল হক ডাক্তারের ছেলে আকরাম হোসেন (৪০) এর সঙ্গে একই জেলার সিংগাইর উপজেলার ভূম-দক্ষিণ গ্রামের মহসিন খানের মেয়ে প্রিয়াঙ্কা(২৫) এর সঙ্গে সাড়ে তিন বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁদের ঘর আলোকিত করে অ্যালিজা (১৮ মাস) নামের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

এ বিভাগের আরও সংবাদ