কালীগঙ্গার জলে বৈঠার দুরন্ত ছন্দ, মাঝিদের উদাস সারিগান। নদীর দু’তীরের আনন্দ করতালি, এক চিরায়ত লোকজ উৎসবে যেন প্রাণ ফিরে পেল ঘিওর।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সিংজুরীর নকিববাড়ী এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।

নকিববাড়ী ও বৈকুণ্ঠপুরসহ আশেপাশের আটটি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই লোকজ উৎসবের উদ্বোধন করেন মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
দেখা যায়, সকাল থেকেই কালীগঙ্গার দুই পাড়ে মানুষের ঢল নামে। আবালবৃদ্ধবণিতার কলকাকলিতে নদীর তীর পরিণত হয় এক বিশাল উৎসব-মিলনমেলায়। ঘরের ছাদ, গাছের ডাল কিংবা নদীর বুকে ভাসমান ছোট ছোট ডিঙি ও ট্রলার থেকে দর্শনার্থীরা উল্লাসে মেতে ওঠেন ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ দেখে।
ঘিওর ও পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল থেকে আসা ২০টি চমৎকার বাইচের নৌকা অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়। ঢোলের সুর ও মাঝিদের সরব হাঁকডাকে কূল ঘেঁষে এগিয়ে চলার এক রোমাঞ্চকর লড়াই জমে ওঠে। আর কূলজুড়ে থাকা দর্শকের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো কালীগঙ্গাপাড়।

পাঁচ ধাপের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে রানার্সআপ ‘আলিফ এক্সপ্রেস’-কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে নাগরপুরের ‘মা-বাবার দোয়া’ নৌকা।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সিংজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ আসাদুর রহমান মিঠু। বিজয়ী দলের হাতে ১ম পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ এবং অন্যান্য বিজয়ী দলের মাঝে তিনটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভিসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার শত বছরের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নিজেদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ছোঁয়া পাবে এবং সামাজিক মেলবন্ধন ও সৌহার্দ্য আরও গভীর হবে।





