শিরোনাম
Advertisement
মতামত

শারদোৎসব ২০২৬: ঐতিহ্যের আঁচলে বাঁধা এক সার্বজনীন প্রশ্ন

Advertisement
সজীব সরকারছবি: সংগৃহীত

আশ্বিনের আকাশে শরতের মেঘ ভাসতে শুরু করেছে। হাতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ-এবারের দেবীপক্ষের সূচনা হচ্ছে ১০ অক্টোবর, শনিবার, মহালয়ার ভোরে। জ্যোতিষমতে এবার দেবীর আগমন গজে অর্থাৎ হাতিতে, যা শুভ লক্ষণ বলেই বিবেচিত; আর গমন হবে নৌকায়।

এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী আর ২১ অক্টোবর, বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দেবীর বিসর্জনে সমাপ্তি ঘটবে পাঁচ দিনের এই উৎসবের। বাণীকুমার ভট্টাচার্যের লেখা “আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক-মঞ্জীর”- এই পঙ্‌ক্তি দিয়েই যুগ যুগ ধরে শুরু হয় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা।

মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ভরাট কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র না শুনলে যেন উৎসবের সূচনাই ঘটে না। কিন্তু এই সার্বজনীন উৎসবটি আজ কোন পথে হাঁটছে, তার ঐতিহাসিক শিকড় কোথায়, আর বর্তমান সমাজে তার সামনে কী কী সংকট দাঁড়িয়ে আছে- ২০২৬ সালের পূজার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এসব প্রশ্ন আজ নতুন করে আমাদের ভাবনার জগতকে নাড়া দিচ্ছে।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, দেবীভাগবত পুরাণ, দেবীমাহাত্ম্য, কালিকা পুরাণ ও শ্রীশ্রী চণ্ডীর মতো নানা গ্রন্থে দেবী দুর্গার কাহিনি রয়েছে। শ্রীশ্রী চণ্ডীর কাহিনি অনুসারে, মহিষাসুর নামের এক দানব অসুর শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধে দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গরাজ্য দখল করেছিলেন। বিতাড়িত দেবতারা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের কাছে সাহায্য চাইলে ত্রিদেবের তেজ এবং অন্য দেবতাদের সম্মিলিত শক্তিতে বলিয়ান হয়ে হিমালয়ের কাত্যায়ন মুনির আশ্রমে এক নারীশক্তির জন্ম হয়- তিনিই দুর্গতিনাশিনী দুর্গা।

দেবতাদের দেওয়া অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তিনি মহিষাসুরকে বধ করেন, তাই তাঁর আরেক নাম মহিষাসুরমর্দিনী। কালিকা পুরাণ ও বৃহদ্ধর্ম পুরাণ মতে, রাম-রাবণের যুদ্ধের সময় শরৎকালে দেবীর আরাধনা হয়েছিল। কৃত্তিবাসী রামায়ণ অনুসারে রাবণবধের আগে রামচন্দ্র দেবীর কৃপা পেতে ১০৮টি নীলপদ্ম জোগাড় করতে গিয়ে একটি কম পড়ায় নিজের পদ্মলোচন চোখ উৎসর্গ করতে উদ্যত হয়েছিলেন- দেবী তাঁর একনিষ্ঠতায় সন্তুষ্ট হয়ে আশীর্বাদ দেন। এই কাহিনির মধ্যে দুর্গা প্রতীকায়িত হন মানুষের ভেতরের শুভশক্তি হিসেবে, আর মহিষাসুর অশুভ শক্তির প্রতীক। যেহেতু শাস্ত্রমতে শরৎকালে দেবতারা নিদ্রিত থাকেন, তাই অসময়ে এই পূজাকে বলা হয় “অকালবোধন”।

দুর্গাপূজার আধুনিক রূপের সূচনা বহুকালের। ঐতিহাসিকদের মতে, মোগল আমলেও ধনী পরিবারে দুর্গাপূজা হতো। বাংলায় প্রথম প্রতিমায় দুর্গাপূজার প্রচলন করেন সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে রাজশাহীর তাহিরপুরের রাজা কংসনারায়ণ, ১৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে- নিজের সামাজিক প্রতিপত্তি বাড়াতে তিনি প্রায় সাত-আট লক্ষ টাকা ব্যয় করেছিলেন সেই পূজায়। তাঁর পরের বছর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে যশোরের রাজা জগদ্বল্লভ রায় বা ভাদুরিয়ার রাজা জয় জগৎ নারায়ণ আরও বেশি খরচ করে বাসন্তী পূজার আয়োজন করেন।

যদিও পণ্ডিত রঘুনন্দনের তিথিতত্ত্ব, কৃত্তিবাস ওঝার রামায়ণ কিংবা বাচস্পতি মিশ্রের রচনার প্রমাণ দেখে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, বাংলায় দুর্গাপূজা দশম-একাদশ শতক থেকেই প্রচলিত ছিল।

দীর্ঘদিন এই পূজা সীমাবদ্ধ ছিল জমিদার ও ধনী পরিবারের প্রাসাদে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ইংরেজদের সন্তুষ্ট রাখতে পূজায় যুক্ত হয় বাইজি নাচ আর মদ্যপানের আসর। ১৭৬৬ সালে কোম্পানির কর্মকর্তা জে জেড হোলওয়েল লিখেছিলেন, পূজায় ইউরোপীয়দের আমন্ত্রণ জানিয়ে ফুল দিয়ে বরণ করা হতো এবং প্রতি সন্ধ্যায় বাইজি নাচের আয়োজন থাকত। কিন্তু সাধারণ মানুষের সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল না। ব্যতিক্রম ছিলেন রানি রাসমণি, যিনি তাঁর জানবাজারের বাড়ির পূজায় প্রজাদের জন্য যাত্রাপালা ও কবিয়াল গানের আসর বসাতেন।

পরিবর্তনের সূচনা ঘটে ১৭৯০ সালে হুগলির গুপ্তিপাড়ায়। অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা একটি পূজাকে বাঁচাতে বারোজন যুবক- উর্দুতে যাকে বলে “ইয়ার”- চাঁদা তুলে পূজার আয়োজন করেন। এখান থেকেই “বারোয়ারি” শব্দের জন্ম, যা পরবর্তীকালে রূপ নেয় “সর্বজনীন” বা “সার্বজনীন” শব্দে। ১৮৩২ সালে কলকাতায় কাশিমবাজারের রাজা হরিনাথের উদ্যোগে প্রথম বৃহৎ পরিসরে বারোয়ারি পূজা হয়, আর ১৯১০ সালে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে ভবানীপুর সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভার হাত ধরে তা প্রথম “সার্বজনীন দুর্গা পূজা”র রূপ পায়। এরপর ১৯১৩ সালে সিকদার বাগান ও ১৯১৯ সালে নেবু বাগানেও একই ধারা অনুসরণ করা হয়। প্রতিমার কাঠামোতেও বদল আসে- ১৯৩৩ সালে কুমারটুলির শিল্পী গোপেশ্বর পাল প্রথম একচালা ভেঙে পাঁচচালা প্রতিমা তৈরি করেন, যেখানে দুর্গা ও তাঁর পরিবারের প্রতিটি সদস্য আলাদা কাঠামোয় স্থান পান।

স্বাধীনতা আন্দোলনেও দুর্গা হয়ে ওঠেন প্রতিরোধের প্রতীক। বঙ্কিমচন্দ্রের “বন্দেমাতরম” কিংবা অবনীন্দ্রনাথের “ভারতমাতা”র মধ্য দিয়ে দুর্গা রূপ নেন দেশমাতার। ঋষি অরবিন্দের “দুর্গাস্তোত্র” ১৯০৯ সালে তাঁর “ধর্ম” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে বিপ্লবীদের প্রাণশক্তি জুগিয়েছিল। কাজী নজরুল ইসলাম “আনন্দময়ীর আগমন” কবিতা লিখে ব্রিটিশদের রোষানলে পড়েছিলেন, আবার বঙ্গভঙ্গের বেদনায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন দুর্গার প্রতিমূর্তিতে বঙ্গমাতাকে নিয়ে বিখ্যাত গান।

দুর্গাপূজার সঙ্গে মহালয়ার শাস্ত্রীয় সম্পর্ক না থাকলেও আবেগের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। ১৯৩১ সালে শুরু হয়ে ১৯৩২ সাল থেকে আকাশবাণীতে নিয়মিত সম্প্রচারিত হতে থাকে “মহিষাসুরমর্দিনী”- পাণ্ডুলিপি বাণীকুমার ভট্টাচার্যের, সংগীত পরিচালনায় পঙ্কজ মল্লিক, আর আবৃত্তিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে বাঙালির আবেগের প্রতীক। ১৯৭৬ সালে আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ নতুনত্বের নামে বিকল্প অনুষ্ঠান “দেবী দুর্গতিহারিণীম্” আয়োজন করে, যেখানে আবৃত্তি করেন উত্তম কুমার আর গান গান মান্না দে, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে প্রমুখ। উত্তম নিজে প্রস্তাব নাকচ করেছিলেন, পরে বাধ্য হয়েই রাজি হন এবং লজ্জায়-গ্লানিতে ছুটে গিয়েছিলেন বীরেন ভদ্রের বাড়িতে ক্ষমা চাইতে। কিন্তু অনুষ্ঠানটি শ্রোতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে- আকাশবাণী ভবনের সামনে জনতা জড়ো হয়ে গেট ভেঙে ঢুকতে চেয়েছিল। ফলে পরের বছর, ১৯৭৭ সাল থেকে আবার ফিরে আসে ভদ্র-মল্লিক জুটির মহিষাসুরমর্দিনী, আর আজও সেই ধারণকৃত কণ্ঠই বাজে প্রতি মহালয়ায়।

দুর্গাপূজার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তার অসাম্প্রদায়িক চরিত্র। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় উৎসবের সম্মিলনে মানুষ অর্জন করে “আমরা” হওয়ার বোধ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই এই পূজা হয়ে ওঠে সর্বজনীন শারদ উৎসব। এক সময় অসাম্প্রদায়িক শিল্পীরা আরতি পরিবেশন করে পুরস্কার পেয়েছেন, আর সাধারণ মানুষ তা উপভোগ করেছেন নির্দ্বিধায়। স্বামী বিবেকানন্দ একবার আলোয়ারের রাজার প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, মানুষ যেমন বাবার ছবিকে বাবার প্রতিকৃতি জেনে শ্রদ্ধা করে, তেমনি প্রতিমার মধ্যেও ঈশ্বরের অবয়ব কল্পনা করে ভক্ত আরাধনা করেন- মূর্তি নয়, তার ভেতরের দেবত্বই পূজিত হয়। “যত্র জীব তত্র শিব”- এই দর্শনে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ঘুচে যাওয়ার আহ্বান নিহিত। ভক্তবৃন্দ দেবী দুর্গার মৃন্ময়ী রূপের ভেতরে চিন্ময়ী সত্ত্বার ভক্তি ভরে আরাধনা করে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় “রূপ-সাগরে ডুব দিয়েছি অরূপ-রতন আশা করি/ঘাটে ঘাটে ঘুরব না আর ভাসিয়ে আমার জীর্ণ তরী”।

তবে আজকের দুর্গাপূজায় সাবেকি আরতি, ধুনুচি নাচ কিংবা পালাগান, রামপ্রসাদী গান, বেহুলা-লখিন্দরের নাটিকার জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে হিন্দি-ইংরেজি-ডিজে গান আর “সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা”র মতো আয়োজন। এর পেছনে বড় কারণ বাণিজ্যিক স্পনসরশিপ। বারোয়ারি পূজার যে স্বতঃস্ফূর্ত সামাজিক চরিত্র ছিল, দেশের বড় বড় পূজামণ্ডপগুলো আজ অনেকাংশে কর্পোরেট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেছে, যারা তারুণ্যের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নিজস্ব শর্তে অর্থ জোগায়। এই সংকট শুধু দুর্গাপূজার নয়, প্রায় সব সামাজিক বড় আয়োজনেই আজ বিরাজমান। আরতি একটি সরল, অসাম্প্রদায়িক আয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক ভাবাদর্শ সহজে প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু “সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা”র মতো অনুষ্ঠান জটিল উপস্থাপনার সুযোগ তৈরি করে, যা কখনো কখনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়।

একসময় আরতি বা ধুনুচি নাচ কিংবা পালাগান, রামপ্রসাদী গানের আবেদনে পূজামণ্ডপে আশপাশের প্রায় সকলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে আকৃষ্ট হতো। কিন্তু বর্তমানে এই সামাজিক বন্দোবস্ত অনেকটাই ক্ষয়প্রাপ্ত। ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সাম্প্রদায়িকতার কড়াল গ্রাস একসময়ের স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্যমান থাকা সমাজকে এমনভাবে বিভক্ত করেছে যে আজ অন্তর্ভুক্তিমূলকতা প্রমাণ করার তাগিদ তৈরি হয়েছে। ফলে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়কে আজ মন্দির ও মাজার পাহারা দিতে হয়- আর প্রতিরোধের বদলে সমাজে কেবল প্রতিকারের চেষ্টা চলছে। তবু আশার কথা, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে প্রতিবছর দুর্গাপূজায় সব ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়। গত বছরও সারা দেশে তেত্রিশ হাজারের বেশি মণ্ডপ-মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আর সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের পূজাকে ঘিরেও এখন থেকেই দেশজুড়ে প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপ সাজানোর প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে।

নিরাপত্তার বিষয়টি প্রতিবছরের মতো এবারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা শিক্ষা কাজে লাগিয়ে পূজামণ্ডপে আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন, পুলিশ-র‍্যাব-আনসার-বিজিবির টহল, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের প্রস্তুতি রাখা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তারপরও প্রতিবছরই কোথাও না কোথাও চাঁদা দাবি করে বেনামি চিঠি পাঠানো কিংবা নির্মাণাধীন প্রতিমা ভাঙচুরের মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে আসে, যা উৎসবের মুহূর্তে উদ্বেগ তৈরি করে। এবারের পূজাতেও এমন কোনো অপতৎপরতা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি। তবে এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি আইনকে নিবর্তনমূলক না করে সংযত থাকাও প্রয়োজন- কাউকে অহেতুক হয়রানি না করে বরং বোধোদয়ের সুযোগ দেওয়াই কাম্য।

দুর্গা নামের অর্থই হলো সংকট থেকে ত্রাণকারী। শাস্ত্রমতে “দ” দৈত্যনাশক, “উ” বিঘ্ননাশক, “র” রোগনাশক, “গ” পাপনাশক ও “আ” ভয়-শত্রুনাশক- এই পাঁচ অক্ষরে গড়া দুর্গা নামটিই যেন সংকটমুক্তির প্রতীক। ২০২১ সালে ইউনেস্কো কলকাতার দুর্গাপূজাকে “অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে- এই স্বীকৃতি শুধু সৌন্দর্যের নয়, বরং এই উৎসবের সহস্র বছরের সামাজিক ঐক্যের প্রতিও এক সম্মান। আজকের প্রয়োজন হলো, পূজার বাণিজ্যিকীকরণ ও রাজনীতিকরণের বিপরীতে তার মূল আধ্যাত্মিক ও সামাজিক চেতনাকে ফিরিয়ে আনা। “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- এই প্রবাদকে প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা আর প্রকৃত সামাজিক সম্প্রীতি, যা কোনো আইন বা প্রশাসনিক নির্দেশে নয়, বরং মানুষের অন্তরের স্বতঃস্ফূর্ততা থেকেই জন্ম নিতে পারে। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার ভোরে যখন আবার বেজে উঠবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই চিরচেনা কণ্ঠস্বর, তখন যেন আমরা নতুন করে উপলব্ধি করতে পারি এই উৎসবের প্রকৃত সার্বজনীন রূপকে। ২০২৬ সালের শারদোৎসব শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সুসম্পন্ন হোক- সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা।

লেখক:
সজীব সরকার
পিএইচডি গবেষক, কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত।

Email: sajibhira39@gmail.com or phd.philsajib@kuk.ac.in

এ বিভাগের আরও সংবাদ