ব্যস্ত জীবনে শরীরচর্চার জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের কাছেই কঠিন। কর্মজীবন, পরিবার ও নানা দায়িত্বের চাপে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে ওঠে না।
এমন পরিস্থিতিতে সাইকেল চালানো হতে পারে সহজ ও কার্যকর শরীরচর্চার একটি উপায়। প্রতিদিন কিছুটা সময় সাইক্লিংয়ের জন্য বরাদ্দ করলেই শরীরকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি মনও ভালো রাখা সম্ভব।
সাইক্লিং শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত সাইকেল চালানোর অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
সাইকেল চালানোর সময় শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় থাকে এবং ক্যালরি খরচ হয়। তাই নিয়মিত সাইক্লিং ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে পারে।
যারা নিয়মিত সাইকেলে যাতায়াত করেন, তাদের দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ডও বেড়ে যায়।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। একইভাবে সাইক্লিংয়ের মতো ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নিয়মিত সাইকেল চালানোর অভ্যাস সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।
পেশি ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়:
সাইক্লিংয়ের সময় বিশেষ করে পা ও কোমরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করে। নিয়মিত সাইকেল চালালে পেশির সক্ষমতা ও শারীরিক শক্তি বাড়তে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকার অভ্যাস তৈরি হয়।
হাঁটুতে তুলনামূলক কম চাপ:
দৌড়ানো বা কিছু ধরনের ব্যায়ামের তুলনায় সাইক্লিংয়ে শরীরের ওজন বহনের চাপ কম থাকে। ফলে অনেকের জন্য এটি তুলনামূলক আরামদায়ক ব্যায়াম হতে পারে। হাঁটু, কোমর বা মেরুদণ্ডের কোনো সমস্যা থাকলে সাইক্লিং শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মন ভালো রাখে:
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও সাইক্লিং উপকারী হতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। খোলা পরিবেশে সাইকেল চালানোর অভ্যাস একঘেয়েমি কাটাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
হজম ও ক্যালরি খরচে সহায়তা:
নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে ক্যালরি খরচ হয়, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মিলিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
কীভাবে শুরু করবেন:
দীর্ঘদিন শরীরচর্চা না করে থাকলে হঠাৎ দীর্ঘ সময় বা দ্রুতগতিতে সাইকেল চালানো উচিত নয়। শুরুতে অল্প সময় ও স্বাভাবিক গতিতে চালিয়ে ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়ানো যেতে পারে। সপ্তাহে কয়েক দিন দিয়ে শুরু করে শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত করার চেষ্টা করা ভালো।
সাইকেল চালানোর সময় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। নিজের উচ্চতা ও গড়নের সঙ্গে মানানসই সাইকেল বেছে নেওয়ার পাশাপাশি হেলমেট ব্যবহার করা জরুরি। বের হওয়ার আগে টায়ারের বাতাস, ব্রেক, গিয়ার, প্যাডেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অংশ ঠিক আছে কি না, তা দেখে নেওয়া উচিত।
যাদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তারা নতুন করে ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত জিমে যাওয়া সম্ভব না হলেও শরীরকে সক্রিয় রাখার জন্য সাইক্লিং হতে পারে সহজ একটি অভ্যাস। প্রতিদিনের যাতায়াতের একটি অংশ সাইকেলে করার সুযোগ থাকলে শরীরচর্চার পাশাপাশি সময়ও বাঁচতে পারে।
সূত্র : বাংলানিউজ