মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পূজা মণ্ডপের জেনারেটর ক্যাবল টানা নিয়ে দ্বন্দ্বে কান্ঠাপাড়া বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কুমার রায়ের (৪০) ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে হরিরামপুর উপজেলার কান্ঠাপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত কৃষ্ণ আন্ধারমানিক গ্রামের বীরেন কুমারের ছেলে এবং পেশায় স্থানীয় গ্রিল ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কান্ঠাপাড়া বাজারের একটি কাঠের দোকানের সামনে কাঁঠাল গাছে মণ্ডপের জেনারেটরের কভার ক্যাবল পেঁচিয়ে রাখা হয়। এতে কাজের সমস্যা হতে পারে জানিয়ে কাঠের দোকানদার কবির মন্দির কমিটির সম্পাদক কৃষ্ণকে আপত্তি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কৃষ্ণ কবিরকে ঘুষি মারেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাজার ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসেন এবং বিকেলে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে দুই পক্ষকে থামান। এরপর কৃষ্ণ নিজ দোকানে ফিরে যান। তবে কিছুক্ষণ পরই বলড়া ইউনিয়নের বহলাতলী এলাকার কয়েকজন লোক লোহার রড ও কাঠের লাঠি নিয়ে কৃষ্ণের দোকানে চড়াও হয় এবং তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয় গ্রিল ব্যবসায়ী এলেম কাজী ও ওষুধ ব্যবসায়ী স্বপন কুমার রায় জানান, বহলাতলী এলাকা থেকে আসা কয়েকজন লোক দেশীয় অস্ত্র ও রড দিয়ে কৃষ্ণকে জখম করে। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা তাকে উদ্ধার করে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনিমেষ জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় কৃষ্ণকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে কান্ঠাপাড়া বাজার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মিরাজ মেম্বার জানান, প্রশাসন বিষয়টি জানে। বাজার কমিটির পক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এসআই জয়নাল আবেদিনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে তদন্ত করছে। ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





